
ভাবুন তো, আপনি যদি খুব কাছে যান, আপনার সঙ্গী আপনাকে জীবন্ত খেয়ে ফেলতে পারে। পুরুষ অক্টোপাসরা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এটা জানে, আর তাদের সমাধান যতটা চতুর, ততটাই অস্বস্তিকর। 🐙
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা, যা Science জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে ক্যালিফোর্নিয়া টু-স্পট অক্টোপাস (Octopus bimaculoides) প্রজননের জন্য কী করে: এটি হেক্টোকোটাইলাস নামে একটি বিশেষায়িত বাহু ব্যবহার করে, যা রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে স্ত্রীটিকে শনাক্ত করে, সম্পূর্ণ অন্ধকারে তার ডিম্বনালী খুঁজে বের করে, এবং তাকে দেখা বা স্পর্শ করার প্রয়োজন ছাড়াই নিষেক সম্পন্ন করে। কৌশলটি কাজ করে কারণ ওই বাহুতে CRT1 নামে রিসেপ্টর আছে, যা স্ত্রীটির নিঃসৃত প্রোজেস্টেরনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়। কোনো দৃশ্যমান যোগাযোগ নয়। কাছে যাওয়া নয়। রাতের খাবার হয়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি নয়।
গবেষক Nicholas Bellono, যিনি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন, সরাসরি বলছেন: ওই বাহুটি এমন এক জিভের মতো কাজ করে, যা রাসায়নিক পরিবেশ বিশ্লেষণ করে। পরীক্ষাগুলো অস্বচ্ছ বাধা দিয়ে এবং সম্পূর্ণ অন্ধকারে করা হয়েছিল, তবু বাহুটি তার গন্তব্য খুঁজে পেয়েছিল। সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো: এই অভিযোজন অন্য কোনো পরিচিত প্রজাতিতে নেই। অক্টোপাসরা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে স্বাস্থ্যকর দূরত্ব বজায় রাখার অনুশীলন করে আসছে, আর এখনই মানুষ তা বুঝতে শুরু করেছে। 🐙
