দৃশ্যটি যেন কোনো নৃশংস লড়াই থেকে উঠে এসেছে: একটি ফ্লেমিঙ্গো তার ঠোঁট আরেকটির মাথায় গেঁথে দিচ্ছে, আর তীব্র লাল একটি তরল সরাসরি একটি ছানার ঠোঁটে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ এটিকে রক্তক্ষরণ বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন, কিন্তু না, তা নয়।
এটিকে ক্রপ মিল্ক বলা হয়, একটি ঘন ও পুষ্টিকর নিঃসরণ যা ফ্লেমিঙ্গো—পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ই—তাদের ক্রপের আবরণে উৎপন্ন করে, যে একই স্থানে তারা খাবার প্রক্রিয়াজাত করে। এর পেছনের হরমোনটি হলো প্রোল্যাকটিন, যা স্তন্যপায়ীদের স্তন্যদান সক্রিয় করা হরমোনটিরই অনুরূপ। এই পদার্থটি প্রোটিনে সমৃদ্ধ, এবং এর লাল রং আসে তাদের খাদ্যের ক্যারোটিনয়েড থেকে, লোহিত রক্তকণিকা থেকে নয়।
তবে এই অবিশ্বাস্য পদ্ধতির একটি মূল্য আছে: এই পুরো সময়জুড়ে, ক্রপ মিল্ক উৎপাদনের জন্য বাবা-মা অতিরিক্ত খাবার খায়, যা শুধু ছানাদের পুষ্টিই দেয় না, তাদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রং গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। প্রক্রিয়াটি এতটাই ক্লান্তিকর ও কঠিন যে পুরুষ ও স্ত্রীকে পালা করে এটি করতে হয়, এবং এই সময়ে উভয় অভিভাবকই তাদের রং হারায়।

এবং যদিও তারা একমাত্র পাখি নয় যারা অনুরূপ নিঃসরণ দিয়ে তাদের বাচ্চাদের খাওয়ায়, ফ্লেমিঙ্গোর দুধের তীব্র লাল রং এই দৃশ্যকে প্রকৃতির সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্যগুলোর একটি করে তোলে।
