দাঁত মানবদেহের সবচেয়ে টেকসই টিস্যু। সময়ের প্রবাহ ও পচন—যখন প্রায় সবকিছুই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে—তখনও দাঁত টিকে থাকে।
কিন্তু একটি স্বল্পপরিচিত ঘটনা আছে, যা ফরেনসিক তদন্তকারীরা খুঁটিয়ে দেখেন: গোলাপি দাঁত। পচনের সময় এটি ঘটে, যখন রক্তের হিমোগ্লোবিন অটোলাইসিস নামের একটি প্রক্রিয়ায় দাঁতের পাল্পে প্রবেশ করে। রঞ্জক পদার্থটি দাঁতের ভেতর থেকে বাইরের দিকে দাগ ফেলে। এটি প্রসাধনী নয়, কিংবা উপরিভাগের দাগও নয়।

এই বিবর্ণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ক্যানাইন ও প্রিমোলার দাঁতে, যেগুলোতে রক্ত সরবরাহ বেশি। ফরেনসিক দন্তবিদ্যায় এটি পাওয়া একটি সতর্কসংকেত। এটি প্রায়ই অক্সিজেনের অভাবজনিত সহিংস মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন শ্বাসরোধ বা ফাঁসি। একে এককভাবে চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যায় না, তবে এটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।
দাঁতের আরেকটি কাজও আছে। কোনো মৃতদেহ আর শনাক্ত করার মতো অবস্থায় না থাকলেও, দাঁত শনাক্তকরণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়গুলোর একটি। বড় ধরনের দুর্যোগ বা পচন অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া কোনো ঘটনায়, হালনাগাদ ডেন্টাল চার্টই হয়তো একমাত্র উপায়, যার সাহায্যে কারও পরিচয় পুনরুদ্ধার করা যায় এবং তার পরিবার তাকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পায়। এমন আগুনও দাঁত সহ্য করতে পারে, যাতে শরীরের বাকি অংশ পুরোপুরি পুড়ে বিলীন হয়ে যায়।

