ডেনমার্কের একটি শুক্রাণু ব্যাংকে আসা এক ব্যক্তি পুরো ইউরোপজুড়ে একটি জেনেটিক ছাপ রেখে গেছেন।
2008 থেকে 2015 সালের মধ্যে, অন্তত 67টি শিশুর জন্ম দেওয়ার জন্য তাঁর শুক্রাণুর নমুনা বিভিন্ন দেশের ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছিল—আটটি দেশে: বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, গ্রিস এবং ডেনমার্ক।
কেউ জানত না যে তাঁর কিছু শুক্রাণুতে TP53 জিন-এ একটি মিউটেশন ছিল, যা লি-ফ্রাউমেনি সিনড্রোমের সঙ্গে যুক্ত—এটি একটি বিরল বংশগত অবস্থা, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি, প্রায়ই অল্প বয়সেই, উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। দাতাটি নিজে সুস্থ ছিলেন এবং তাঁর প্রজনন কোষের মাত্র কিছু অংশে মিউটেশনটি ছিল, ফলে এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।
একই দাতার মাধ্যমে গর্ভধারণ করা শিশুদের পরিবারগুলো ক্যানসারের ঘটনা জানালে বিষয়টি ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। রুয়াঁ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের জীববিজ্ঞানী Edwige Kasper এই ধরণটি অনুসন্ধান করে দেখেন যে, প্রথম যে 67 জন শিশুকে নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে 23 জন মিউটেশনটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল এবং 10 জনের ইতিমধ্যেই ক্যানসার ধরা পড়েছিল—যার মধ্যে ছিল মস্তিষ্কের টিউমার, রক্তের ক্যানসার এবং সারকোমা।


কিন্তু গল্পটি প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক বড় ছিল। পরবর্তী তদন্তে একই দাতার নমুনাগুলোর সন্ধান মেলে ইউরোপের 14টি দেশের 67টি ক্লিনিকে এবং নির্ধারণ করা হয় যে সেগুলো সম্ভবত অন্তত 197টি শিশুর জন্ম দিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
আর এখন আমরা শুধু একটি “জেনেটিক ঝুঁকি” নিয়ে কথা বলছি না। EBU-সমন্বিত তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে যে এই দাতার মাধ্যমে গর্ভধারণ করা কিছু শিশু মারা গেছে। যারা মিউটেশনটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, তাদের জন্য এই তথ্যের অর্থ হতে পারে সারা জীবন ধরে চিকিৎসা পরীক্ষা করাতে থাকা।
এই ঘটনাটি এখন আরও বিস্তৃত এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে: একই দাতার শুক্রাণু ব্যবহার করে কতজন শিশুকে গর্ভধারণ করানোর অনুমতি দেওয়া উচিত? European Sperm Bank এমন পরিস্থিতি যাতে আবার এত বড় আকার ধারণ না করে, তা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে।
