লিলি জানে না বরফধস কী, কিংবা ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীই বা কী। সে শুধু জানে, একদিন হঠাৎ তার মানুষগুলো উধাও হয়ে গিয়েছিল।
সে নেপালের একটি গ্রাম ধুঙ্গা বাজারের উষ্ণ পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে সবাই তাকে চিনত। সে স্থানীয় একটি হোটেলের কাছে ঘুমাত; হোটেলের মালিকেরা পালা করে তাকে খাওয়াতেন ও যত্ন নিতেন, যেন সে সবারই আপন। কিন্তু ২৬ আগস্ট তিব্বতের সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধস বোটেকোশি নদীকে বাড়িঘর, রাস্তা ও মানুষ ভাসিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায়। যে হোটেল মালিক তাকে খাওয়াতেন, নিখোঁজদের মধ্যে তিনিও ছিলেন।


তারপর থেকে লিলি একই ছোট্ট এলাকায় বারবার ঘুরে বেড়িয়েছে, যেন তার স্মৃতির মানচিত্রও এখনো পরিবর্তনগুলো মেনে নিতে পারছে না। যে দরজাগুলো আর নেই, সে সেগুলোতে শুঁকে দেখে; আর সেই কোণাগুলোতে অপেক্ষা করে, যেখানে একসময় তাকে আদর করা হাতগুলো থাকত। আজ গ্রামের দুই শিশু, যারা লিলিকে কুকুরছানা থাকা সময় থেকেই চেনে, তারাই তাকে খাওয়ায়। এটি আগের সেই বাড়ি নয়, তবে কিছু তো বটে। আর এই মুহূর্তে, লিলির থেকে যাওয়ার একটি কারণ দেওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
