পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা আছে, যেখানে বছরে একবার কেউ কুকুরকে তুচ্ছ করে দেখে না। না পথকুকুরকে, না বাজারের স্টলের নিচে ঘুমিয়ে থাকা কুকুরটিকে, না ইউনিফর্ম পরে রাস্তায় টহল দেওয়া কুকুরটিকে। সেদিন তারা সবাই সমান। তারা সবাই সম্মানিত। 🐕✨
সেটি নেপাল, আর সেই দিনের একটি নাম আছে: কুকুর তিহার, “কুকুরদের দিন”। এটি তিহারের অংশ, দেশের দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব; পাঁচ দিন ধরে চলা এই উৎসবের প্রতিটি দিন উৎসর্গ করা হয় ভিন্ন এক সত্তার জন্য। কিন্তু দ্বিতীয় দিনটি… দ্বিতীয় দিনটি শুধু তাদের জন্য।
সকাল থেকেই রাস্তাগুলো ভরে ওঠে এমন এক আচার-অনুষ্ঠানে, যা যেন সরাসরি কোনো কিংবদন্তি থেকে উঠে এসেছে: তাদের গলায় কমলা গাঁদা ফুলের মালা, আশীর্বাদের চিহ্ন হিসেবে কপালে আঁকা লাল টিকা, আর হাতে করে পরিবেশন করা বিশেষ খাবার—যেমন করে কোনো পুরোনো বন্ধুকে ধন্যবাদ জানানো হয়। 🌼🔴


কারণ নেপালিদের কাছে কুকুর শুধু সঙ্গী প্রাণী নয়। এটি এক বার্তাবাহক। এক রক্ষক। বিশ্বাস করা হয়, অজানার পথে আত্মার যাত্রায় তারা সঙ্গ দেয়, আর তাদের আনুগত্য এতটাই নির্মল যে তা ঐশ্বরিকতার সীমানায় পৌঁছে যায়। এই বিশ্বাস বহু পুরোনো; এমনকি প্রাচীন পবিত্র গ্রন্থেও এর উল্লেখ আছে, যেখানে স্বর্গের পথে যাত্রার শেষ পর্যন্ত একমাত্র কুকুরটিই রাজার প্রতি বিশ্বস্ত থাকে। নিজের কুকুর ছাড়া তিনিও প্রবেশ করতে পারেন না। বন্ধনটি এতটাই পবিত্র। 🐾💫
আর সবচেয়ে সুন্দর বিষয়টি হলো: সেদিন সবচেয়ে পরিত্যক্তরাও বাদ পড়ে না। স্বেচ্ছাসেবক ও প্রতিবেশীরা গৃহহীন কুকুরদের খুঁজতে রাস্তায় হাঁটেন, তাদের গলায় মালা পরাতে, খাবার দিতে, তাদের চোখের দিকে তাকাতে—যেন এক মুহূর্তের জন্য তারা মহাবিশ্বের প্রধান চরিত্র। এমনকি পুলিশ কুকুর, উদ্ধারকারী কুকুর, যারা অন্যদের জন্য জীবন ঝুঁকিতে ফেলে, তারাও ইউনিফর্ম ও ফুলের মাঝে নিজেদের শ্রদ্ধাঞ্জলি পায়। 🌸🐕🦺
এটি কোনো রূপকথা নয়। এটি শুধু সুন্দর একটি পোস্টকার্ডও নয়। এটি একটি গোটা জাতির থেমে যাওয়া, যদি শুধু এক দিনের জন্যও হয়, মনে করার জন্য যে এমন কিছু সঙ্গী আছে, যাদের কথায় জয় করা যায় না, বরং নিরন্তর উপস্থিতির মাধ্যমে। যে এমন এক ধরনের ভালোবাসা আছে, যা বিনিময়ে কিছুই চায় না এবং, সম্ভবত ঠিক সেই কারণেই, অলৌকিকের এত কাছাকাছি মনে হয়। 🙏💛


কারণ কখনও কখনও ঐশ্বরিকতা বজ্রপাতের মাঝে স্বর্গ থেকে নেমে আসে না। কখনও কখনও তা চার পায়ে এসে পৌঁছায়, লেজ নাড়ে, আর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে—কেউ যেন তাকে সেই একই সম্মানের সঙ্গে দেখে, যে সম্মানের সঙ্গে সে ইতিমধ্যেই আমাদের দেখে।
