প্রতি রাতে, সূর্য ডুবে গেলে, ভিক্টর মার্টিন অ্যাঙ্গুলো কর্ডোভা তার খাতাগুলো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতো। সে কয়েক মিটার হেঁটে একটি রাস্তার বাতির খুঁটির কাছে যেত, ফুটপাতে বসত এবং স্কুলের কাজ করার জন্য সেই একমাত্র আলোর উৎসটিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাত।

তার বয়স ছিল মাত্র 12 বছর এবং সে তার মায়ের সঙ্গে পেরুর মোচেতে একটি সাধারণ বাড়িতে থাকত, যেখানে তাদের বিদ্যুৎ ছিল না। অন্য শিশুরা যখন নিজেদের শোবার ঘরে পড়াশোনা করত, তখন বাড়ির কাজ শেষ করতে তাকে রাস্তার বাতির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবুও, সে কখনও চেষ্টা করা বন্ধ করেনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করতে এবং তার পরিবারকে আরও ভালো ভবিষ্যৎ দিতে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়াই ছিল তার স্বপ্ন।

2019 সালে একটি নিরাপত্তা ক্যামেরায় দৃশ্যটি ধরা পড়ে। ফুটেজে ছেলেটিকে রাস্তার বাতির খুঁটির নিচে খাতায় লিখতে লিখতে সম্পূর্ণ মনোযোগী অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়, এবং বিশ্বের লাখো মানুষ তার দৃঢ়সংকল্পে আবেগাপ্লুত হয়।

গল্পটি বাহরাইনে পৌঁছায়, যেখানে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী ইয়াকুব ইউসুফ আহমেদ মুবারক শুধু ছেলেটির সঙ্গে দেখা করতে হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যা দেখেছিলেন, তা ছিল প্রতিদিন এগিয়ে চলার জন্য সংগ্রামরত একটি পরিবার। তাই তিনি সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন।

মুবারক বাড়িটির সম্পূর্ণ সংস্কারের অর্থায়ন করেন, পরিবারটির জন্য বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন, ভিক্টর যে স্কুলে পড়ত সেখানে উন্নয়নে সহায়তা করেন এবং তার মাকে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করেন যাতে তিনি আয় করতে পারেন।

রাস্তার বাতির খুঁটির নিচে এক ছেলের পড়াশোনা দিয়ে যা শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত একটি পুরো পরিবারের জীবন বদলে দেয়।

ভিক্টরের গল্প বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, কারণ এটি মানুষকে এমন একটি সত্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল যা প্রায়ই নজর এড়িয়ে যায়: এগিয়ে যেতে কিছু শিশুর অন্যদের চেয়ে বেশি প্রতিভার প্রয়োজন হয় না, বরং তাদের শুধু সেই সুযোগগুলোর প্রয়োজন হয়, যেগুলোকে আমাদের অনেকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিই।

কারণ কখনও কখনও, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভবিষ্যতের পথে আলো ফেলতে একটি মাত্র আলোই যথেষ্ট।
