
দশকের পর দশক ধরে, অতিভারী ব্ল্যাক হোলগুলো মহাবিশ্বের খলনায়কের ভূমিকাই পালন করেছে: এমন মহাকর্ষীয় দানব, যা গ্যাস, ধুলো এবং খুব কাছে চলে আসা যেকোনো কিছুকেই গিলে ফেলে। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের জ্যোতির্পদার্থবিদ ব্যারি ম্যাককার্নানের নেতৃত্বে করা একটি নতুন গবেষণা ঠিক এর উল্টো কথাই বলছে।
arXiv রিপোজিটরিতে প্রকাশিত মডেল অনুযায়ী, সক্রিয় গ্যালাক্টিক নিউক্লিয়াসকে ঘিরে থাকা ধুলোর টোরাসগুলো — বাইরের সেই অঞ্চলগুলো, যেখানে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় — গ্রহের আঁতুড়ঘর হিসেবে কাজ করে। ওই অঞ্চলগুলোতে বিশাল গ্রহ তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে বৃহস্পতির আকারের বা তার চেয়েও বড় জগতও থাকবে। গবেষণাটির সবচেয়ে যুগান্তকারী উপসংহার হলো: এই পরিবেশগুলোতেই সমগ্র পরিচিত মহাবিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রহ-জনসংখ্যা থাকতে পারে।
এখন পর্যন্ত, সক্রিয় ব্ল্যাক হোলের আশপাশকে কেউই জগত গঠনের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করেনি। গবেষণাটি এখনও সহকর্মী-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়নি, তাই এর উপসংহারগুলো নিশ্চিত পর্যবেক্ষণ নয়, বরং মডেলভিত্তিক অনুমান। কিন্তু যদি এই মডেল বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ে টিকে যায়, তবে যে বস্তুকে আমরা সবসময় সবকিছুর সমাপ্তি বলে কল্পনা করেছি, সেটিই আসলে মহাবিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জগত-স্রষ্টা হয়ে উঠবে।
